পশ্চিমবঙ্গের প্রস্তাবিত কল্যাণী গ্রিনফিল্ড বিমানবন্দর প্রকল্পে নতুন প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর আকাশবাণী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নদিয়া জেলায় প্রায় ২,০০০ একর জমি নিয়ে প্রকল্পের জন্য জমি চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া এগোচ্ছে এবং ৯টি মৌজায় জমি বিক্রি ও কেনাকাটার নথি রেজিস্ট্রেশনে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
এর অর্থ এই নয় যে বিমানবন্দর নির্মাণের কাজ শুরু হয়ে গেছে। বর্তমানে জমি চিহ্নিতকরণ, জমি অধিগ্রহণ এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়াই এগোচ্ছে। বিস্তারিত প্রকল্প রিপোর্ট এবং নির্মাণের সময়সূচি জমি অধিগ্রহণ ও অন্যান্য প্রশাসনিক কাজ শেষ হওয়ার পরে চূড়ান্ত হওয়ার কথা।
কোন কোন এলাকায় প্রভাব পড়ছে
১৮ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে নয়টি মৌজার নাম দেওয়া হয়েছে: বীরপাড়া, চর যাদুবাটি, গঙ্গা মোহনপুর, চর মধুসূদনপুর, সারাটি, মুরতিপুর, উমাপুর, ঈশ্বরীপুর এবং কল্যাণী। এই এলাকাগুলিতে সম্পত্তি সংক্রান্ত নথি রেজিস্ট্রেশনে প্রশাসনিক বিধিনিষেধের কথা জানানো হয়েছে।
আকাশবাণীও জানিয়েছে যে প্রায় ২,০০০ একর জমি ৯টি মৌজার মধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে। ফলে সংশ্লিষ্ট জমির মালিকদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, জমি বিক্রি, ক্রয় বা অন্য কোনও নথি রেজিস্ট্রেশনের আগে স্থানীয় রেজিস্ট্রেশন অফিসের বর্তমান নির্দেশ যাচাই করা।
প্রস্তাবিত বিমানবন্দর নিয়ে এখন পর্যন্ত কী জানা গেছে
২০২৬ সালের রাজ্য বাজেটে কল্যাণীর কাছে দ্বিতীয় বিমানবন্দরের পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছিল। জুন মাসের প্রতিবেদনে তখন প্রায় ১,০০০–১,৫০০ একর জমির কথা বলা হয়েছিল। পরবর্তী রিপোর্টে প্রকল্পের জন্য মোট জমির প্রয়োজন প্রায় ২,০০০ একর হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। এই সংখ্যার পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ, তাই এটিকে একই পর্যায়ের চূড়ান্ত জমির পরিমাণ হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।
Times of India-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে সরকারের হাতে প্রায় ২৪০ একর জমি রয়েছে, যার মধ্যে একটি সরকারি ইটভাটার প্রায় ১৭২ একর জমিও রয়েছে; বাকি জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হতে পারে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সর্বাধিক জমির প্রয়োজন কল্যাণী ও বীরপাড়া এলাকায় হতে পারে।
জমির মালিকদের কী করা উচিত
- নিজের জমি উল্লিখিত মৌজার মধ্যে পড়ে কি না, খতিয়ান ও দাগ নম্বর দিয়ে যাচাই করুন।
- জমি বিক্রি বা হস্তান্তরের আগে সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রেশন অফিসে বর্তমান নিষেধাজ্ঞা কার্যকর আছে কি না নিশ্চিত করুন।
- কোনও দালালের কথায় শুধু মৌখিকভাবে নির্ভর করবেন না; সরকারি নোটিশ বা রেজিস্ট্রেশন দপ্তরের নির্দেশ দেখুন।
- অধিগ্রহণের কোনও নোটিশ এলে তার কপি, জমির নথি এবং প্রাপ্তির প্রমাণ সংরক্ষণ করুন।
প্রকল্পের পরবর্তী ধাপ
বর্তমান তথ্য অনুযায়ী জমি চিহ্নিতকরণ ও অধিগ্রহণের প্রশাসনিক কাজ আগে এগোবে। এরপর Detailed Project Report এবং নির্মাণের সময়সূচি চূড়ান্ত হওয়ার কথা। তাই এখনই বিমানবন্দর চালুর নির্দিষ্ট বছর বা নির্মাণ শুরুর তারিখ দাবি করা নির্ভরযোগ্য হবে না।
সংশ্লিষ্ট সরকারি তথ্য কোথায় দেখবেন
জমি বা রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নোটিফিকেশন পোর্টাল এবং সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রেশন অফিসের নির্দেশ যাচাই করুন।
ফ্যাক্ট-চেক
ফ্যাক্ট-চেক: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত পাওয়া আকাশবাণী এবং ১৮ সেপ্টেম্বরের Times of India প্রতিবেদনের তথ্য মিলিয়ে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। জমির চূড়ান্ত পরিমাণ বা নির্মাণের সময়সূচি এখনও চূড়ান্ত বলে ধরে নেওয়া হয়নি।
দাবিত্যাগ: জমি বিক্রি, ক্রয় বা আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের সর্বশেষ নোটিশ ও পেশাদার আইনি পরামর্শ যাচাই করুন।
আপডেট লগ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬: ৯টি মৌজায় জমি চিহ্নিতকরণ এবং রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত অস্থায়ী বিধিনিষেধের নতুন তথ্য যোগ করা হয়েছে।